প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসি কে নিয়ে শৈশবের জানা অজানা তথ্য

0
497

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় আপনার প্রিয় ফুটবলার কে..? নিশ্চিতভাবে তিনটি নামই উঠে আসবে- লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার।

যদি কেউ বর্তমান ফুটবলের বিন্দুমাত্র কেউ জানেন, তবে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় এই তিনজনকে তিনি চেনেন অথবা নাম শুনেছেন।
আজ আমি এই 3 জনের ভিতর লিওনেল মেসির জীবনী তুলে ধরছি।

ছোট একটা উদাহরণ দেই লিওনেল মেসি কত জনপ্রিয় ফুটবলার, আর্জেন্টিনায় মেসির নাম সংক্রান্ত একটি আইন করা হয়েছে যে সদ্যজাত শিশুদের নাম মেসি রাখা যাবে না। আর্জেন্টিনায় মেসি নামটা এত মানুষের হয়েছে যে বিশেষজ্ঞদের কপালে ভাঁজ পড়ে গেছে। আগামী কয়েক বছরের ভিতরে মেসি নামের মানুষ এতটা বেড়ে যাবে যে প্রত্যেককে আলাদাভাবে বিচার করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে। আপনার আশেপাশে একটু খোঁজ নিলে জানতে পারবেন মেসিকে নিয়ে তার ভক্তদের কতটা উন্মাদনা।

আমরা সাধারণত মেসি নামের জনপ্রিয় মানুষটাকে চিনি কিন্তু সাধারণ মানুষ থেকে মেসি কিভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন সেটা আজকে আমরা জানব। এবার তবে শুরু করা যাক মেসির জীবনের সফলতার গল্প। মেসির জন্ম 24 শে জুন 1987 সালে আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে। তার বাবা জর্জ মেসি একটা ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তার মা সেলিনা মারিয়া ছিল খণ্ডকালীন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরিবারের সদস্য বলতে মেসির মা বাবা মেসির দুই ভাই এবং মেসি ও বোন। পাঁচ বছর বয়স থেকে মেসির ফুটবল যাত্রা। ফুটবলে মেসির প্রথম হাতেখড়ি তার বাবার হাত ধরে। তারপর স্থানীয় ক্লাব গ্রানদিলিওর হয় খেলা শুরু। ১995 সালে নিজ শহর রোসারিওর ক্লাব নিউএল ওল্ড বয়েজের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। সেই ছোটবেলায় মাত্র নয় বছর বয়সে মেসি কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায় দ্বারা এতটাই পারদর্শী হয়ে ওঠেন যে তার পায়ে একবার বল গেলে অন্তত 15 মিনিটের ভিতরে কারো সাধ্য নেই তার পা থেকে বল নেওয়ার। দর্শকেরা মাঠের বাইরে থেকে মেসির খেলা দেখে সিস বাজিয়ে আরো বেশি উম্মাদনার তৈরি করতো। মেসির জীবনে সবকিছু ভালোভাবে এগোচ্ছিল কিন্তু 11 বছর বয়সে এসে মেসি হোঁচট খেয়ে পড়লো একটি কঠিন রোগের কাছে। একটি গ্রোথ হরমোনের অভাব রয়েছে তার যে কারণে সমবয়সীদের চেয়ে তার বৃদ্ধি কম। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রোগের চিকিৎসা না করা হলে তার গ্রোথ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। অথচ চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। রোগের চিকিৎসা হিসেবে প্রতিদিন এক যন্ত্রণাদায়ক ইনজেকশন পুশ করা হত তার পায়ে। প্রথম সাত দিন এক পায়ে পরের সাত দিন অন্য পায়ে।

মেসির এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা কয়েক বছর পর্যন্ত ঠিকঠাক চলে কিন্তু এর ফলে এক পর্যায়ে তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ হতে থাকে। প্রতিমাসে মেসির জন্য ১৫০০ ডলার খরচ করতে হতো। যা তার দিনমজুর বাবার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল। তিনি ঠিকঠাক মতো মেসির চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছিলেন না। মজার ব্যাপার ছিল এই কঠিন অসুস্থতার ভিতর মেসি তার প্রিয় ফুটবল খেলা ছাড়েননি বরং এর প্রতি মেসির কঠিন পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায়ের আরো বাড়তে থাকে। পায়ে অসম্ভব যন্ত্রনা নিয়ে মেসি তার ফুটবল প্রাক্টিস নিয়মিত চালিয়ে থাকে। একটা কথা প্রচলিত আছে যদি তুমি কোন জিনিস মন থেকে চাও এবং তার জন্য অধ্যবসায় করে থাকো সৎ পথে থেকে তবে সারা পৃথিবী এক হয়ে যাবে তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে। মেসির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। মেসির চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু সেই সময় মেসির জীবনে এক অন্যমোর দিল। মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে তার কোন এক শুভাকাঙ্ক্ষী বার্সেলোনার তৎকালীন মহাপরিচালক কারলোস বিকচারসকে মেসির প্রতিভার কথা জানান। মেসির ছন্দময় ফুটবল খেলার গল্প শুনে তিনি নিজেই দেখতে আসেন মেসির ফুটবল খেলা এবং এসে একটি বাচ্চা ছেলের ফুটবল খেলা দেখে তিনি নিজেই অবাক হয়ে গেলেন। এরপর তিনি মেসির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন এবং মেসির চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে একটি প্রস্তাব দিলেন যে। মেসির পুরো চিকিৎসার খরচ বহন করবে বার্সেলোনা বিনিময়ে মেসিকে স্পেনে এসে বার্সেলোনার হয়ে খেলতে হবে। বেশির পরিবার সানন্দে রাজি হলেন এই প্রস্তাবে। মেসির বয়স তখন 14 বছর। মেসির পরিবারকে নিয়ে আসা হলো স্পেনে এবং পরিবারসহ মেসির স্পেনে বসবাস শুরু।

বার্সেলোনার যুব একাডেমী লা মাফিয়ার হয়ে তার খেলা শুরু। তার ফুটবল নৈপুণ্য দ্বারা অসংখ্য মানুষের মন জয় করে ফেললেন। 16 নভেম্বর 2003 সাল মেসির বয়স তখন 16 বছর 145 দিন মেসি প্রথম বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামেন। তারপর 2005 সালের 17 ই আগস্ট প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় হাঙ্গেরির বিপক্ষে। এরপরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। একের পর এক রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিতে শুরু করলেন, 2012 সালে এক বছরে সর্বোচ্চ গোল করে ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম লেখান। সে বছর তার মোট গোলের সংখ্যা 91 টি। তার মানে আরেক কিংবদন্তী ডিয়াগো মুলার মার্কের 1972 সালে করা 85 গোলের রেকর্ড তিনি ভেঙে দেন। 2004 সাল থেকে 2016 সাল পর্যন্ত তিনি বার্সেলোনার হয়ে 348 টি ম্যাচ খেলে 312 টি গোল করেন। স্প্যানিশ লা লিগাতে তিনি 300 গোল করা একমাত্র ফুটবলার লিওনেল মেসি।

2014 সালে সাধারণ আর্জেন্টিনা টিম একমাত্র মেসির নৈপুণ্যে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যান, আর মেসি জিতে যান বিশ্বসেরা ফুটবলার হিসেবে গোল্ডেন বল। এসব ছাড়াও তিনি এমন কিছু রেকর্ড করে ফেলেছেন যে যা অন্য কোন প্লেয়ারের একার পক্ষে ভাঙা প্রায় দুঃসাধ্য। কি দেখলাম মেসির জীবন থেকে সাফল্য লাভের জন্য তিনি কতটা পিপাসু ছিলেন। কতটা অধ্যবসায় এবং কতটা পরিশ্রমই না করে গেছেন তার সাফল্য লাভের জন্য। ভেবে দেখেছেন তার জীবনেও কত বড় ধরনের সমস্যা সে এসেছিল কিন্তু তিনি তা জয় করেছেন।

একটা কথা মনে রাখবেন- বড় সমস্যা সেই মানুষদের ই আসে যিনি সমাধান করার ক্ষমতা রাখেন। একটি বড় সাফল্য লাভের জন্য অনেক বার ব্যর্থ হলেও স্বপ্ন থেকে পিছপা হন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here