অপরূপ সৌন্দর্যের লিলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।

0
1175

অপরূপ সৌন্দর্যের লিলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা যা বরিশাল বিভাগের, পটুয়াখালি জেলার, কলাপাড়া উপজেলার, মহিপুর থানার, লতাচাপলী ইউনিয়নে অবস্তিত। কুয়াকাটা বাংলদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লিলাভূমি। এটি এমন একটি সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়। ঢাকা থেকে সড়ক পথে এর দূরত্ব ৩৮০ কি.মি.। বরিশাল থেকে ১০৮ কি.মি.।

কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান সমূহ :

০১. কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত : কুয়াকাটার বেলাভূমি বেশ পরিচ্ছন্ন। এটি এমন একটি স্থান যেখানে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। প্রায় ১৮ কি.মি. বিস্তৃত কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত। পুর সৈকত জুড়ে আছে নারিকেল গাছের সারি। এ সৈকতের পূর্বে দিকে রয়েছে গঙ্গামতি আর পশ্চিম প্রান্তে বিশাল জেলে পল্লী। সমুদ্রের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য।

০২.কুয়াকাটার ‘কুয়া’: যে নাম থেকে এই স্থানের নামকরন হয়েছে। এটি এমন একটি কুয়া যার থেকেই কুয়াকাটা নাম করন করা হয়েছে। কথিত আছে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে, বহু রাখাইন আরাকান ছেড়ে নৌকাযোগে গন্তব্য হীন ভাবে বেড়িয়ে পড়ে আর এই খানে এসে পারি জমায়৷ চলতে চলতে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরের রাঙ্গবালি দ্বীপ খুঁজে পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করে৷ সাগরের লোনা পানি ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তারা এখানে একটি কূপ খনন করে এবং ওই কুয়া এর নাম অনুসারে এ স্থানের নাম দেয়া হয় কুয়াকাটা৷ তখন থেকে কুয়াকাটা নামে পরিচিত।

০৩. লাল কাঁকড়ার চর : মাইলকে-মাইল বালুচর জুড়ে লাল কাঁকড়ার ঝাঁক। দুর থেকে দেখলে মনে হবে বালুচরে লাল কাপড় বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কুয়াকাটা থেকে অল্প সময়ের দূরত্ব লাল ‍কাঁকড়ার চর। এখানে গেলে সুধু লাল কাঁকড়া ই দেখতে পাবেন না। আরও পাবেন বিমোহিত হওয়ার মতো উম্মত্ত বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রের গজ্রন, সমুদ্রের পারে আছড়ে পড়ছে বিশাল ঢেউ, তার পাশে লাল কাঁকড়া গুল এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে।

০৪.শুঁটকি পল্লী : এটি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এখানে অনেক জেলে পরিবার বাস করে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে জেলেরা মূলত সমুদ্র থেকে মাছ ধরে শুঁটকি তৈরির কাজ করে। এখানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্ৰিক মাছ এর শুঁটকি পাওয়া যায়। খুব কম দাম এ শুঁটকি পাওয়া যায় এখানে।

০৫. ফাতরার বন : কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম পাশে নদী পার হলেই মিলে সুন্দরবনের এক অংশ যেখানে রয়েছে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল। এ বনে সুন্দর বনের সকল বেশিষ্ট থাকলেও নেই কোন হিংস্র প্রাণী। বন মোরগ, বানর, নানান পাখি আর বুনো শুকরের দেখা মেলে এই বনে। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যাবার পথ হল ইঞ্জিন চালিত নৌকা।

০৬.সীমা বৌদ্ধ মন্দির : কুয়াকাটা এর কুয়া এরে সামনেই পাবেন সীমা বৌদ্ধ মন্দির। এ মন্দির এ পাবেন প্রায় ৩৭ মন ওজনের প্রাচীন অষ্টধাতুর তৈরি বুদ্ধ মূর্তি।

০৭.মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির : কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৮কি.মি. দূরে মিশ্রিপাড়া গ্রামে এ মন্দির অবস্থিত। এ গ্রামে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের বাস। এখানে আছে অনেক বড় একটি বৌদ্ধ মন্দির। শুনতে পাওয়া গেছে এ মন্দিরের ভেতরে আছে উপমাহাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তি।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here